শনিবার, ১৮ Jul ২০২৬, ০২:৪০ পূর্বাহ্ন
কাস্টমস ডকুমেন্টস জাল-জালিয়াতিসহ কাস্টমস সার্ভারে অবৈধ অনুপ্রবেশের মাধ্যমে এক কন্টেনিয়ার মদ ও এক কন্টেনিয়ার সিগারেট খালাসের চেষ্টাকারী চক্রের ১ জন সদস্য গ্রেফতার।
মোঃ শাহরিয়ার রিপন ঃ- চট্টগ্রাম ব্যুরো
কাস্টমস ডকুমেন্টস জাল-জালিয়াতিসহ কাস্টমস সার্ভারে অবৈধ অনুপ্রবেশের মাধ্যমে অসত্য ঘোষণায় শুল্ক ফাঁকি দিয়ে চোরাচালানের মাধ্যমে এক কন্টেইনারে ১১,৬৭৬ লিটার বিদেশী মদ ও এক কন্টেইনার বিদেশী সিগারেট(পঞ্চশ লক্ষ শলাকা) আমদানী করে চট্টগ্রাম বন্দর হতে খালাসের চেষ্টাকারী চক্রের ১ জন সদস্য গ্রেফতার
১৫/০৭/২০২৫ তারিখ সিএমপি’র বন্দর থানার মামলা নং-১১, তারিখ-১৩/০৯/২০২৪ ইং, ধারা-কাষ্টমস অ্যাক্ট ২০২৩ এর ধারা-১৭১ এর উপ-ধারা (১) টেবিলের ক্রমিক ৫/৬/৯ তৎসহ ২৫ (ই), The Special Power Act 1974, এবং ৪৬৭/৪৬৮/৪৭১ পেনাল কোড সংক্রান্তে তদন্তাধীন মামলার তদন্তে প্রকাশিত অভিযুক্ত ও সিএমপি’র বন্দর থানার মামলা নং-০১, তারিখ-০২/১২/২০২৪ ইং, ধারা- কাষ্টমস আইন ২০২৩ এর ১৭১ এর উপ-ধারা (১) টেবিলের ক্রমিক ৫/৬/৯ তৎসহ ২৫ (ই), 25 (B), The Special Power Act 1974 এবং ৪৬৭/৪৬৮/৪৭১ পেনাল কোড এর এজাহারনামীয় অভিযুক্ত নেপাল পালিয়ে যাওয়ার সময় ঢাকা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের ইমিগ্রেশন পুলিশের সহায়তায় জালজালিয়াতিসহ কাস্টমস সার্ভারে অবৈধ অনুপ্রবেশের মাধ্যমে অসত্য ঘোষণায় শুল্ক ফাঁকি দিয়ে চোরাচালানকৃত বিদেশী মদ আমদানী করে খালাসের চেষ্টাকারী চক্রের ১ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে সিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম বিভাগ|
বর্ণিত মামলার ঘটনায় একটি সংঘবদ্ধ অপরাধীচক্র কর্তৃক চীন থেকে বন্ডের আওতায় শুল্কমুক্ত সুবিধায় ফেব্রিক্স আমদানির মিথ্যা ঘোষনার আড়ালে বিপুল পরিমাণ অন্তত ১১,৬৭৬ (এগার হাজার ছয়শত ছিয়াত্তর) লিটার বিদেশি মদ আমদানি করা হয়েছে এবং কমপক্ষে ১০/১২ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকির অপচেষ্টা হয়েছে যা বাংলাদেশের জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সার্ভারে অবৈধ অনুপ্রবেশমূলক একটি আন্তর্জাতিক চোরাচালানের চাঞ্চল্যকর ঘটনা| অত্র মামলার ঘটনায় উল্লেখিত মামলাটি রুজু পরবর্তীতে পূর্বে গ্রেফতারকৃত ৭ জন অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং তদন্তকালে প্রাপ্ত গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে তদন্তে প্রাপ্ত অভিযুক্ত শেখ সেজান(২৬) কে গত ১৫/০৭/২০২৬ তারিখ বিকাল অনুমান ৬.০০ টার সময় নেপাল পালানোর সময় ঢাকা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর হতে ইমিগ্রেশন পুলিশের সহায়তায় আটক করা হয়|
আসামী অপরাপর আসামীগণ সহ পরস্পর যোগসাজসে অসত্য ঘোষনায় আমদানিকৃত বিদেশী মদ জাল জালিয়াতির মাধ্যমে ভূয়া এলসি সৃজন পূর্বক রাষ্ট্রের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সার্ভার তথা এনবিআর এর নিয়ন্ত্রনাধীন কাষ্টমস হাউস, চট্টগ্রামের ASYCUDA WORLD SYSTEM হ্যাক করে বন্দর থেকে পণ্য খালাসের অপচেষ্টা করতঃ যাবতীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে|
উপরোক্ত আসামী অত্র মামলার ঘটনায় কাস্টমসের ও বন্দরের সার্ভারে অবৈধ অনুপ্রবেশে টেকনিক্যাল সাপোর্ট দিয়ে প্রত্যক্ষভাবে অংশগ্রহন করার বিষয়টি ¯স্বীকারে শেখ সেজান তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষতা ব্যবহার করে ASYCUDA World System, CPA Portal এর নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে অন্যের User ID-এর অননুমোদিত ব্যবহার, পাসওয়ার্ড পরিবর্তন, এবং প্রতারণামূলক কাস্টমস কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ কারিগরি সহায়তা প্রদান করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদে সে স্বীকার করে যা ইতিপূর্বে গ্রেফতারকৃত আসামি মোঃ আশরাফ হোসেন@রাজু কর্তৃক বিজ্ঞ আদালতে কাঃবিঃ ১৬৪ ধারা মোতাবেক প্রদত্ত তার দোষ- স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে প্রকাশিত জবানবন্দিতে সমর্থিত |
তদন্তে প্রাপ্ত ডিজিটাল আলামত পর্যালোচনায় দেখা যায় যে, ২০/০৫/২০২৪একটি মোবাইল অপারেটরের মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহার করে কাস্টমসের একজন অফিসারের User ID দিয়ে অননুমোদিতভাবে Login করা হয় এবং পরবর্তীতে একই User ID ব্যবহার করে সিগারেট চোরাচালানের মামলায় LC-Gi Registration ও Open কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়| ইতিপূর্বে আসামী শেখ সেজান(২৬) কে গ্রেফতারে নড়াইল জেলার লোহাগড়া থানাধীন তাহার বাড়িতে অভিযান পরিচালনাকালে সে পলাতক থাকায় তখন গ্রেফতার করা সম্ভব না হলেও তাহার নিজ বাড়ি হতে ASYCUDA World System হ্যাক করে LC-i Registrationও Open কার্যক্রম সম্পন্ন করার কাজে তাহার নামে রেজিষ্ট্রেশনকৃত মোবাইল নম্বর এর ব্যবহৃত Samsung ব্র্যান্ডের মোবাইল সেটটি উদ্ধারপূর্বক জব্দ তালিকা মূলে জব্দ করা হয়েছিল| প্রযুক্তিগত অনুসন্ধানে জানা যায় যে, আসামি তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ এবং বিভিন্ন তথ্যপ্রযুক্তি-ভিত্তিক কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত ও সংঘবদ্ধ চোরাচালানে উক্ত কার্যক্রম বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত ভূমিকা পালন করেন মর্মে তথ্য প্রমাণ পাওয়া গেছে|
আসামি শেখ সেজান পূর্বেও সরকারি বিভিন্ন জনসেবামূলক ওয়েবসাইট ক্লোনিং, জাতীয় পরিচয়পত্র, ভূমি উন্নয়ন করের রসিদ, জন্মনিবন্ধন, টিকা সনদসহ বিভিন্ন সরকারি ডিজিটাল সেবা জালিয়াতির অভিযোগে সিএমপি সিটি ও ডিএমপি সিটিটিসি টিমের অভিযানে গ্রেফতার হন| সে ও তার সহযোগীরা সরকারি ওয়েবসাইটের অনুরূপ (ঈষড়হব) প্ল্যাটফর্ম তৈরি, নাগরিক তথ্য সংগ্রহ এবং বিভিন্ন ডিজিটাল জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত থেকে প্রতারণামূলকভাবে সহজ সরল লোকজনের নিকট হতে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় করে একাধিকবার গ্রেফতার হয়েছে| গ্রেফতারকৃত শেখ সেজান এর বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় সাইবার ক্রাইম ও প্রতারণা সংক্রান্তে ৭ টি মামলা রয়েছে| প্রকাশ থাকে যে, বর্ণিত মামলা দুইটির ঘটনায় এযাবৎ সিএন্ডএফ প্রতিষ্টান ‘হাফেজ ট্রেডিং প্রাইভেট লিমিটেড’এর ডাইরেক্টর ও চেয়ারম্যান ১| খালেদ হোসেন মামুন ও ২| বাকির হোসেন; উক্ত সিএন্ডএফ প্রতিষ্টানের কর্মচারী ৩| খোরশেদ আলম রিপন, ৪| মিজান; চক্রের অপর সদস্য ৫| আশরাফ হোসেন রাজু, ৬| খায়েজ আহমেদ@ আরিফ এবং ৭| বড় রাজু’দের তদন্তকালীন বিভিন্ন সময়ে গ্রেফতার পূর্বক বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে|
।